Saturday, 27 May 2023

বিহঙ্গচারণা পর্ব-১

বিহারের সাঁওতাল পরগনার সাঁওতালদের বিশ্বাস মতে, তখন কেবল জল ছিল কোন স্থল ছিল না। তার মধ্যে ছিলেন দুজন দেবতা, ঠাকুর ও মারাং-বুরু। দেবতাদের মানুষ তৈরির ইচ্ছা হল। ঠাকুর তখন জলের ফেনা দিয়ে দুটি মুর্তি তৈরি করলেন। তারপর মুর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করার সময় ভুলে মানুষের প্রাণের বদলে পাখির প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে ফেললেন। ফলে মুর্তি দুটি পাখি (হাঁস-হাঁসিন) হয়ে উড়ে চলে গেল, তাদের আর দেখা গেল না। বারোমাস পর পাখি দুটি হাঁস-হাঁসিন) ফিরে এসে ঠাকুরকে একটু শুকনো ডাঙা দিতে অনুরোধ করল, যাতে তারা সেখানে বাস করতে পারে। ঠাকুর ও মারাং-বুরু সব মাছ, কাঁকড়া ও কেঁচোদের বললেন, জলের তলা থেকে মাটি তুলে আনতে, কিন্তু কেউ তা পারল না। .


Lesser whistling duck
সরালি (হাঁস ও হাঁসিন)

অবশেষে কুমিরকে জলের তলে মাটিতে বাঁধা হল, কেঁচো ও কেন্নরা কুমিরের পিঠে মাটি জমা করল, তাই জমতে জমতে একটি দ্বীপের সৃষ্টি হল। সেই দ্বীপে ঠাকুর একটি গাছ ও কিছু ঘাস-তৃণ রোপন করলেন। সেই দ্বীপে পাখি দুটি, হাঁস এবং হাঁসিন বাসা করল; হাঁসিন দুইটি ডিম পাড়ল।

Ruddy shell duck
চখা ও চখি

সেই ডিম দুটি থেকে দুইটি মানব শিশুর জন্ম হল:একটি নর অপরটি নারী। এরাই পরে সব মানুষের জনক জননী হল। সাঁওতালরা নরটিকে ডাকে ‘পিলচু-হরম’ আর নারীটিকে বলে ‘পিলচু-বুড়ি’।

Bar headed goose
ডোরামাথা রাজহাঁস ও হাাঁসিন

No comments:

Post a Comment

Smartphone or Book for Leisure? - Daily Life Happiness

It is 6.30 pm of Mid June. The weather is really hot and humid feels more discomfort. I returned home from my office completing eight hours ...